দলের
ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে কুণাল ঘোষকে দল থেকে তাড়াল তৃনমূল কংগ্রেস।
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষকে
সাসপেন্ড করল তৃনমূল। শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে দলের সিদ্ধান্তের
কথা জানালেন তৃণমূলের মহাসচিব তথা শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এদিন
বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পিছনের কারণ ব্যাখ্যা করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়
বলেন,শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউ নন।কয়েকদিন ধরে সাংসদ সাংবাদিক কুণাল ঘোষ
যেভাবে দলবিরোধি মন্তব্য করে চলেছেন তার জেরেই দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি
সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এদিন তিনি জানান, কলকাতার এক
অনুষ্ঠানে দলের তিনজন সাংসদ দলবিরোধী মন্তব্য করেন৷ এরপরই দলের পক্ষ থেকে
তিন সাংসদকে শোকজ করা হয়৷
সম্প্রতি
কলকাতার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি রক্তদান শিবিরে উপস্থিত হয়ে দলের তিনজন
সাংসদ তাপস পাল, শতাব্দ রায়, এবং কুণাল ঘোষ বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ উগরে
দেন৷ স্পষ্ট জানান, যারা তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছে তাদের কোনও সম্মান নেই৷
পাশাপাশি সেই দিনের অনুষ্ঠানে সারদা কাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে
তোপ দাগেন কুণাল ঘোষ৷ এরপর থেকেই দলবিরোধী কথা বলার জন্য দলের পক্ষ থেকে
তিনজনকেই শোকজ করা হয়৷ তবে দলবিরোধি মন্তব্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত আরও
দুই সাংসদ তাপস পাল ও শতাব্দী রায় এই ঘটনার জন্য দলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন৷
তারা জানিয়েছেন, সেদিনের ঘটনার জন্য তারা অনুতপ্ত, তাই এখনই এঁদের
সাসপেন্ড করার কথা ভাবছে না দল বলে জানালেন তৃণমূলের মহাসচিব।এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, অনুষ্ঠানেই সারদা কাণ্ড প্রসঙ্গে দলবিরোধী মন্তব্য করেন কুণাল ঘোষ। এরপর দলের তরফ থেকে গত ২০ তারিখে ওই তিন সাংসদকে শোকজের চিঠি দেওয়া হয়েছিল৷ তারপরও বিভিন্ন জায়গায় কুণাল ঘোষ ক্রমাগত দলবিরোধী কথা বলায় ২৭ সেপ্টেম্বর দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তিন সদস্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী ও মুকুল রায় একটি বৈঠকে কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। এদিন দলের পক্ষ থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দেন যারা দলের বিরুদ্ধাচরণ করবে অথবা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে তাদের ওপর দল সবসময় নজর রাখবে৷
যদিও শোকজের চিঠি পাওয়ার কথা আগেই অস্বীকার করেছেন কুণাল ঘোষ। এদিনও তিনি ফের বলেন, শোকজের চিঠি পেলে তিনি দলের সঙ্গে কথা বলতেন। এক্ষেত্রে তিনি দলের সঙ্গে কথা বলার কোনও সুযোগ পাননি৷ তবে তিনি শীঘ্রই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন৷ এমনকি তিনি এবিষয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে শোকজের চিঠি চাইবে বলেও জানান তিনি৷
দলবিরোধী মন্তব্য করায় বহিষ্কার হলেন কুণাল ঘোষ৷ তবে ক্ষমা প্রার্থনা করে আপাতত দল থেকে রক্ষা পেলেন তাপস, শতাব্দী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷
No comments:
Post a Comment